Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূচনা লগ্নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এর আওতায় ১৯৮৫-১৯৮৬ সালে রাজশাহী,চাঁপাইনবাগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ১৪ টি উপজেলা নিয়ে ’’ বরেন্দ্র সমন্বিত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’’ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে মরুপ্রবন  বাজশাহী অঞ্চলের আরও ১১ টি উপজেলা সহ মোট ২৫ টি উপজেলায় মরুময়তা রোধ ও কৃষি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মাধ্যমে পশ্চাদ পদ জনগোষ্ঠির আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহন করে এবং ১৯৯০ সন পর্যন্ত চলমান থাকে। একটি প্রকল্পের আওতায় একটি বৃহৎ এলাকার সামগ্রিক অবস্থা উন্নয়নে জটিলতা তৈরি হওয়ায় এবং কার্যক্রমের ব্যাপক গ্রহন যোগ্যতা থাকায় ১৯৯১ সনে ১৫ ফেব্রুয়ারী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিএডিসি হতে আলাদা করে কৃষি মন্ত্রণালয় এর অধীনে ’’বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’’ নামে স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

                 

                 বরেন্দ্র অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা

পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সূদুর প্রসারী কর্ম পরিকল্পনা ,স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের বলিষ্ঠ ভূমিকা, কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস শ্রম ও আত্ম ত্যাগ ,নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে স্বল্প সময়েই মরু প্রবন বাজশাহী অঞ্চলে গভীর নলকুপ স্থাপন ও বিদ্যুতায়নের  মাধ্যমে সহজ ও সাশ্রয়ী সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করণে ফল ফসল উৎপাদন, বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে সবুজ বরেন্দ্র অঞ্চল গঠন, পুকুর খাল ও খাড়ি খনন-পূণঃখনন এর মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূ-উপরস্থ সেচ ব্যবস্থাপনা ও মৎস্য চাষ,বীজ উৎপাদন ও ন্যায্য মূল্যে বিতরন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জণের লক্ষ্যে সরু ও সুগন্ধি চাল উৎপাদন,ভূমি রূপতার বৈচিত্রতায় সুপেয় খাবার পানির সংকট নিরসনার্থে সেচ কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যে স্থাপিত গভীর নলকুপের বহুমুখী ব্যবহার এর মাধ্যমে আন্ডার গ্রাউন্ড পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবারাহ করন এবং গ্রামে উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহজে বাজার জাত করণের লক্ষ্যে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও পাকা করণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের ফলে সামগ্রিক জীবন যাত্রার মানো্ন্নয়নে এক যুগান্ত কারী ও কল্যাণ কর পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে ৩ জেলায় বিস্তৃত একটি আঞ্চলিক সরকারী সংস্থা জাতীয় পর্যায়ে অভূতপূর্ব অবদান রাখতে সক্ষম হয়। ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ হতে ২০০১ সনে পশ্চাদপদ রাজশাহী অঞ্চল খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন সহ সবুজ বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিনত হয়। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সফলতার এই ধারাবাহিকতায় সেচ সুবিধা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ২০০২ সনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ঠাকুরগাঁও ,দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলায় বিস্তৃতমৃতপ্রায় ও ধ্বংসন্নুখ  ’’ উত্তর বাংলাদেশ সেচ প্রকল্পের’’ ১২১৭ টি অকেজো ও অচালু গভীর নলকুপ বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পূর্বানুরূপ সফল কর্মকান্ডে অতি অল্প সময়েই উল্লেখিত ১২১৭ টি পরিত্যক্ত গভীর নলকুপ সচল করে ৩ জেলায়ও সেচ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শস্যাদি চাষাবাদে যুগান্তকারী পরিবর্তন সুচিত হয়। ফলশ্রুতিতে পূর্বে উল্লেখিত ৬ জেলা ব্যতিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অবশিষ্ট জেলা সহ উত্তর বঙ্গের মোট ১৬ টি জেলার ১২৩ টি উপজেলায় ২০০৪ সন হতে পর্যায় ক্রমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সামগ্রিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। বর্তমানে ১৬ জেলায় প্রায় ১৪৫০০ টি বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকুপ দ্বারা সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএমডিএ পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়  সচিব পদ মর্যাদার একজন চেয়ারম্যান (কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান),সরকার নিয়োগ কৃত কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সদস্য সচিব), ডেপুটি ইন্সপেকটর জেনারেল অফ পুলিশ,রাজশাহী (সদস্য),জেলা প্রশাসক রাজশাহী,নওগাঁ,চাপাই নবাবগঞ্জ,নাটোর,পাবনা,বগুড়া (সদস্য),উপসচিব,কৃষি মন্ত্রণালয় (সদস্য), মাননীয় প্রধান মন্ত্রী মনোনীত তিন জন বিশিষ্ট ব্যাক্তি (সদস্য)। পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী,নওগাঁ,চাপাই নবাবগঞ্জ,নাটোর,পাবনা,বগুড়া অঞ্চল হতে নির্বাচিত মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য বর্গ।

 

বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক সাফল্য মন্ডিত কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নিয়ে ২০০৫ সনের ২৬ শে সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী জোন দপ্তরের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। ভুরুংগামারীউপজেলায় বিএডিসি স্থাপিত অকেজো ও অচালু ৩৭টি গভীর নলকুপ পূণঃ সচল করণের কার্যক্রম এবং নতুন গভীর নলকুপ স্থাপন কার্যক্রম নিয়ে যাত্রাশুরু করে ইতোমধ্যে ৩২টি গভীর নলকুপ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে সচল করে কৃষকদের সেচ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। সেচের পানি অপচয় রোধ কল্পে অত্যাধুনিক ভূ-গর্ভস্থ পিভিসি পাইপ লাইনের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষ রোপন, গ্রামীন জনগোষ্ঠির জীবন যাত্রার  মানো্ন্নয়নে নাগরিক সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি কল্পে সেচের গভীর নলকুপ হতে ওভার হেড ট্যাংক নির্মাণের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করণ,উন্নত ও আধুনিক চাষাবাদ করণের লক্ষ্যে কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান সহ সামগ্রিক কার্যক্রমে অত্র অঞ্চলেও বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের  ব্যাপক গ্রহন যোগ্যতায় প্রশংসনীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।বর্তমানে ভুরুংগামারী উপজেলায় বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সামগ্রিক কার্যক্রম নাগেশ্বরী জোন দপ্তর,নাগেশ্বরী থেকে পরিচালিত হয়।

ছবি